Home » বঙ্গ ছেড়ে কলিঙ্গে

বঙ্গ ছেড়ে কলিঙ্গে

Share this in your social media

প্রথম পর্ব:

 
ফেব্রুয়ারি মাসের 21 তারিখ। বিকেল চারটে। আমি এখন বসে আছি রম্ভার otdc পান্থনিবাসের দোতলা ঘরের ব্যালকনিতে, একটি চেয়ারে। আজ দুপুর একটা নাগাদ যখন চেকইন করি, পেটে তখন রীতিমত জোর কদমে ছুঁচো নৃত্যরত। তাই চেক ইন করে সবার প্রথমে একতলায় পন্থনিবাসের নিজস্ব ক্যান্টিনে গিয়ে পেটে দানাপানি চালান করে দিয়ে, পান্থনিবাসের গন্ডীর ভেতরেই চারপাশ টা একটু হাঁটাহাঁটি করে তারপর দোতলায় আসি।
 
ঘুরতে বেরোলে ভালো খাওয়া দাওয়া কখনোই আমার প্রাইম ফোকাস নয়। কিছু দিয়ে পেট ভরালেই হলো। তবে যেখানে বা যেই রাজ্যেই যাই না কেন, তাদের নিজস্ব ঘরানার রান্নাবান্নার স্বাদ বা ধরুন যেখানে যেটা বিখ্যাত সেটা একবার চেখে দেখার সুপ্ত ও তীব্র মনবাঞ্ছা মনে ভীষণ ভাবে আলোড়ন তুলতে থাকে।
আমিও যথাসাধ্য চেষ্টা করি সেই আলোড়নকে প্রশমিত করবার। আজ দুপুরে ভাতের সঙ্গে ছিলো মুগ ডাল, মচমচে আলুভাজা আর ডিমের কারী।
এদের রান্নাবান্না যথেষ্ট সুস্বাদু, দাম যুক্তিযুক্ত, আর সব থেকে বড় কথা প্রতিটি স্টাফের ব্যবহার ভারী সুন্দর, গোছানো, সংযত আর যথাযথ। দোতলায়, ঘরে এসে দেখি, দলের সবাই ব্যালকিনতে দাঁড়িয়ে বিশাল উচ্ছসিত। কিন্তু আমি ঠিক এইভাবে হামলে পরে, এত কথাবার্তার ভীরে, এতদিনের এত দীর্ঘ অপেক্ষার আমেজটা নষ্ট করে দিতে চাইছি না।
 
চাইছি একটু রয়ে সয়ে, ধীরে ধীরে লীন হতে। এখন সুন্দর একটা রেফরেসিং স্নানের যে ভীষণ প্রয়োজন আমার, তা ভীষণ ভাবে অনুভব করলাম। পন্থনিবাস থেকে অতিথিদের জন্য দেয়া মরচে রঙের গোল মার্কা গ্লিসারিন সাবান হাতে নিয়ে, শাওয়ার খুলে দিয়ে তার নীচে বেশ কিছুক্ষন চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইলাম। মানস পটে একে একে ভেসে উঠছিলো, আগের দিন রোজকার নিয়মে অফিস যাওয়া, অফিস থেকে বাড়ি ফেরা, তারপর ঝটপট ব্যাগ গুছিয়ে, বাড়ি থেকেই রাতের খাবার খেয়ে, লোকাল ট্রেন ধরে রাত দশটা নাগাদ শিয়ালদা পৌঁছানো, তারপর শিয়ালদা থেকে বাসে করে 10.40 নাগাদ হাওড়া স্টেশনের বড় ঘড়ির নীচে পৌঁছানো, বাকী সঙ্গী সাথীদের একে একে আসা, রাত 11.45 এর হাওড়া চেন্নাই মেলের সংরক্ষিত বগিতে, সংরক্ষিত বার্থে সারাদিনের, সারা সপ্তাহের ক্লান্ত শরীর টাকে এক নিমেষে এলিয়ে দেয়া….তারপর, তারপর যখন ভোর বেলা ঘুম ভাঙে ট্রেনের দুলুনিতে, তখন আমি বঙ্গ ছেড়ে কলিঙ্গে।
 
 
হুররেএএএ….
ঝটপট চোখ মেলে, নব ঘুরিয়ে শাওয়ার বন্ধ করে, স্নান সেরে বাইরে এলাম। আমার ভাবখানা তখন এমন যেন স্নান সেরে বাথরুম থেকে না বেরিয়ে, কোনো লোহার শিকল ছিঁড়ে আমি বাইরে বেরোলাম। সত্যি সত্যি, সব ক্লান্তি যেন এক নিমেষে উধাও। নীল রঙের ঢিলেঢালা প্যান্ট আর আর সাদা রঙের কুর্তিতে যখন আয়নার সামনে দাঁড়ালাম চুল আচড়াতে, নিজেকে আয়নায় দেখে মনে হলো যেন কোনো স্বর্গরাজ্যের নাম না জানা, বৃষ্টিভেজা পাখী। আজ, কাল, পরশু এই তিন দিন এই পাখী উড়ে বেড়াবে মনের আনন্দে, আপন খেয়ালে। ইন্টারকমে কল করে ক্যান্টিনে বিকেলের চায়ের অর্ডার দিয়ে এই সবে ব্যালকনিতে এসে বসলাম। বারান্দায় দেখি এক প্রেমিক যুগল প্রেমালাপে ব্যস্ত। আমাকে আসতে দেখে ওরা ডানা ঝটপটিয়ে উড়ে গেলো।
 
বোধ হয় বিরক্তই করলাম ওদের। কিন্তু আমার ও যে কিছু করার ছিলো না। আমাকেও যে এবার প্রেম করতে হবে। সেই বহু প্রতিক্ষীত মাহেন্দ্রক্ষণ যে ধীর পায়ে এসে, আমার দিকে দুহাত মেলে দাঁড়িয়ে। তার সঙ্গে এবার শুভ দৃষ্টি বিনিময়ের পালা যে আমার এখন। এই পান্থনিবাসের সব থেকে সুন্দর জায়গাটি হলো এই দোতলা ঘরগুলির সাথে লাগোয়া ব্যালকনি গুলি।
 
 
এখানে বসে বাইরে তাকালে বেশ অনেকটা জায়গা জুড়ে সবুজ ঘাসের লন। জায়গায় জায়গায় বাহারী ফুলের সুন্দর বাগান করা। লনটির শেষে পন্থনিবাসের পরিখার গা ঘেঁষে পরপর দাঁড়িয়ে আছে কটেজগুলো।লনের এক কোনে একটি মুকুলে ভরা আমগাছ। সেই আমগাছের ছায়ায় এদের পোষা কয়েকটি রাজহাঁস ঘুরে বেড়াচ্ছে, ডেকে বেড়াচ্ছে। বড্ড মায়া হলো বন্দী হাঁসগুলোকে দেখে। নাহ, আজ আর কোনো মন খারাপ করা নয়। ও বন্দী, ও বুঝুক গিয়ে।
আমি তো স্বাধীন, আমার চেতনা স্বাধীন, আমার চোখের দৃষ্টি আজ স্বাধীন। কল্পনা আর বাস্তবের সমাপতন আজ। এবার ধীরে ধীরে পন্থনিবাসের বন্ধ ফটকটির বাইরে দৃষ্টি প্রসারিত করলাম, দেখতে পেলাম একটি জেটি, যাতে বেশ কিছু লোকজনের ভিড়। আর সেই ভিড় ছাড়িয়ে এবার অসীমে দৃষ্টি নিক্ষেপ করা মাত্র সারা শরীরে যেন শিহরণ খেলে গেলো।
 
আরে ওই তো, ওই তো নীলাকাশের ছায়ায়, টলটলে নীল রঙের ঈষৎ লবণাক্ত জলের বিশালাকার হৃদ চিলিকা। আর ওই তো দূরে, সেই নীল জলে একটি বিন্দুর মত দেখা যাচ্ছে ব্রেকফাস্ট আইল্যান্ড কে। এতবার তাকে ছবিতে দেখেছি যে, এখন এত দূর থেকে বিন্দুসম দেখালেও আমার চিনে নিতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা হলো না। ছোটবেলার ভূগোল বইতে প্রথম ‘চিলিকা’ নাম পড়েছিলাম। আমি কিন্তু আজ নির্ভয়ে বলতে পারি, ছোটবেলার ভূগোল বইয়ের চিলিকা বড্ড নিরস ছিলো আমার কাছে। বড় হয়ে যখন চিলিকা কে নতুন করে চিনলাম, জানলাম ভ্রমন বই পড়ে, সে তখন থেকে আমার মনের মণিকোঠায় রসে টইটম্বুর হয়ে সযতনে লালিত।
 
বেশ কয়েকবার পুরী বেড়াতে গেছি। তবে পুরী থেকে আমার কখনো চিলিকা যাওয়া হয়নি। চলন্ত ট্রেনের জানালা দিয়ে কয়েকবার এক ঝলক চোখ দিয়ে ছুঁয়েই দুরন্ত এই মনকে শান্ত করার চেষ্টা করেছি মাত্র এর আগে। এইবার হ্রদের সেই ঘন নীল জলে ডুব সাঁতার দিয়ে আরো দূরে দৃষ্টি প্রসারিত করতে চাইলাম, কিন্তু এবারে প্রতিহত হলাম। হ্রদের জল ছাপিয়ে দূরের ওই অনুচ্চ পাহাড়সারির গায়ে গিয়ে আমার দৃষ্টি আটকে গেলো। কিন্তু এই আটকে পড়ায় কোনো মন খারাপের সুর নেই, বরং আছে চরম পরিতৃপ্তি। এই মুহূর্তে আমি কানায় কানায় পরিপূর্ণ, আর কিছুই চাওয়ার নেই। আমি এখন সব পাওয়ার দেশে।
 
পন্থনিবাসের এক কর্মী ভাই দরজা ঠেলে ঘরের ভেতরে এলো চা নিয়ে, আমিও ব্যালকনি থেকে ঘরে এসে চায়ের কাপ নিয়ে, ওদিকের দরজা ঠেলে আবার বেরিয়ে গেলাম বাইরে। তবে এবার চিলিকামুখী ব্যক্তিগত ব্যালকনিতে নয়। উল্টোদিকের কমন করিডোরটিতে। দেয়ালের ফাঁকা গুলো দিয়ে বাইরে তাকালে দেখতে পাচ্ছি একটা কাঞ্চন গাছ ফুলে ফুলে লাল হয়ে আছে। এই পন্থনিবাসটির অবস্থান বেশ অনেকটা জায়গা নিয়ে। দুই দিক দিয়ে ঢোকা বা বেরোনো যায়। সামনের দিকটি মূল রাস্তার সাথে যুক্ত। আর চিলকামুখী যেই ফটকটি, সেটি পেছনের দিক। সামনের মূল ফটকের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে বহু বছরের পুরানো রাজবাড়ি। ভিতরে ঢুকবার অনুমতি নেই।
 
 
চা শেষ করেই হ্রদের দিকে এবার আমরা হাঁটতে যাবো।এতক্ষনে খোঁজখবর নিয়ে আমাদের এটি জানা হয়ে গেছে যে হ্রদটিকে ঘিরে থাকা সামনের ওই পাহাড় সারির পেছনে সূর্য অস্ত যায় না, বরঞ্চ প্রতিদিন ভোরবেলায় সূর্য ওই পাহারগুলোর পেছন থেকে ঘুম ভেঙে ওঠে। সবাই মিলে দোতলা থেকে নীচে নেমে, ওই ঘাসের লন পার করে, কালো ফটক ঠেলে জেটিতে উঠে হৃদের দিকে এগোতে থাকলাম। আরো অনেক ট্যুরিষ্টের ভীরে, সবাই নিজেকে যে যার মতো হারিয়ে আবার কখনো কখনো ধরা দিয়ে যেতে লাগলাম। যেন লুকোচুরি খেলা চলছে নিজেদের সাথে অন্য ট্যুরিষ্টের। আবার কখনো জেটির দুই পাশে সার দিয়ে বসা দোকানীদের সঙ্গে।
 
নাহ, আমার আজ আর সেল্ফি তুলতে ইচ্ছে করছে না। কখনো তো দেখিনি পাখীদের সেল্ফি তুলতে, তাই আর কি। ধীরে ধীরে, এক সময়ে দিনের আলো নিভে এলো। মানুষ জন বাড়ির পথে পা বাড়ালো, সঙ্গী সাথীরা ফিরলো হোটেলের ঘরে, আর আমি ফিরলাম বাসায়। এখন আমাদের সান্ধ্য আড্ডার আসর বসবে। আড্ডার ফাঁকে এক সময় আমি তোমাদের গল্প শোনাবো আজকের সকালবেলার। সকাল 8.20 মিনিটে বালুগাঁও স্টেশনে নামা থেকে দুপুর 1 টা অবধি আমি কি কি যুদ্ধজয় করে এখানে এসেছি, সেই গল্প। শুনতে পারছি, সঙ্গী সাথীরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছে, এখন ওদের সাথে আড্ডা না মারলে, ফেব্রুয়ারি মাসের ঠান্ডায়, রাতের বেলায়, লনের ওই কোনের, ওই মুকুলিত আম গাছের ডালে না কি আমাকে বসিয়ে রেখে আসবে।
ওনাদের সাদামাটা, নির্ভেজাল যুক্তি পাখীর বাসা যে গাছের ডালেই হয়|
 

দ্বিতীয় পর্ব:

 
এখন রাত্রি সাড়ে দশটা। সান্ধ্য আড্ডা শেষে, রাতের খাবার খেয়ে, ঘুমোতে যাওয়ার আগে কিছুটা সময় নিজের মত করে কাটাতে আবার এসে বসেছি সেই ব্যালকনিতে। আজ আমাবশ্যা। রাতের আকাশে চাঁদ আজ অনুপস্থিত। হাল্কা মেঘ রয়েছে আকাশে। নীচের লনের আলো গুলো সব জ্বলছে। তাই আমাবস্যার নিকষ অন্ধকারকে অনুভব করার অবকাশ নেই আজ। এই কৃত্রিম আলোগুলোকে একটুও ভালো লাগছে না এই মুহূর্তে। অন্ধকার ভেদ করে হ্রদের ধার থেকে অদ্ভুত কয়েকটা ডাক ভেসে আসছে। তার মধ্যে একটা ডাক আমার চেনা। শিয়ালের দল ডেকে চলেছে হুক্কা হুয়া এক টানা। আর মাঝে মাঝে কয়েকটা রাত জাগা পাখী উড়ে উড়ে জানান দিয়ে যাচ্ছে রাত তো অনেক হলো, এবার ঘুমিয়ে পড়ো লিনা।
 
হ্যাঁ এবার শুতে যেতে হবে। আগামীকাল চিলিকা হ্রদে ভেসে বেড়াবার সব বন্দোবস্ত পাকা। ভোর 5 টার এলার্ম লাগানো হয়ে গেছে মোবাইলে। ঘুমোতে যাওয়ার আগে চট করে সকালের গল্পটা একটু শুনিয়েনি তোমাদের। আজ ভোরে ট্রেনের দুলুনিতে ঘুম ভাঙা থেকে গন্তব্য স্টেশনে পৌঁছানো অবধি পুরো সময় টা প্রতিবারের নিয়ম মতই জানালার বাইরে অপলকে তাকিয়ে বসে ছিলাম। ছোট ছোট পাহারী টিলা, নদী, গাছপালা, ধানক্ষেত, ছোট ছোট গঞ্জকে জানালার বাইরে দিয়ে দৌড়ে যেতে দেখলে কি ভালো টাই না লাগে। শরীরের সাথে দুলুনি যেন মনেও লাগে।
 
চেন্নাই মেইল আমাদের বালুগাঁও স্টেশনে নামিয়ে দেয় সকাল ৮.২০ মিনিটে। স্টেশন থেকে রম্ভা otdc বত্রিশ কিঃমিঃ অর্থাৎ মাত্র এক ঘন্টার পথ। ওদিকে পান্থনিবাসে চেক ইন টাইম বেলা বারোটা। তাই হাতে পাওয়া এই অতিরিক্ত সময় টুকুর সদ্ব্যবহার করতে স্টেশন থেকে বাইরে বেড়িয়ে দরদাম করে একটি অটো ঠিক করে আমরা পাঁচ জন একটু চাপাচাপি করেই তাতে চেপে বসলাম। উড়িষ্যা এসেছি অথচ জগন্নাথবাবুর সাথে একটু দেখা সাক্ষাৎ করবো না, তা কি হয় না কি? অতএব জগন্নাথ মন্দিরকে মাঝে রেখে সামনে পেছনে আর কয়েকটি মন্দির জুড়ে নিয়ে ‘জয় জগন্নাথ’ বলে আমাদের জয়যাত্রা শুরু হলো।
প্রথম দ্রষ্টব্য ৬ কিঃমিঃ দূরে দক্ষ প্রজাপতি মন্দির।
 
এখানে মন্দির ঘোরা নিয়ে কিছু নিজের কথা বলি। আমি ঈশ্বরে বিশ্বাসী নই। আবার কিন্তু অবিশ্বাসীও নই। আমি ভারতবর্ষের একাধিক জাগ্রত মন্দিরে গেছি। দেবী দেবতাদের দর্শন করেছি। করজোড়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছি। কিন্তু কোনদিনও পুজো দি নি। মন্দিরের গঠন শৈলী, পূজার রীতি, লোকেদের ধর্ম বিশ্বাস, মালা ফুল চন্দনে সজ্জিত দেব-দেবীর মূর্তি, ধুপ ধুনোর গন্ধ….এসব দেখতে, অনুভব করতেই আমি মন্দিরে যাই। এটা একটা নেশার মত আমার কাছে।
“আপনারা মন্দির ঘুরে এখানেই আসবেন, আমি এখানেই অপেক্ষা করবো” উড়িয়া অটোড্রাইভার দাদা পরিষ্কার বাঙলা ভাষায় বুঝিয়ে দেন আমরা পৌঁছে গেছি দক্ষ প্রজাপতি মন্দিরে।
 
 
শিব ঠাকুরের বউ পার্বতীর বাবার নাম ছিলো দক্ষ। মানে ধরে নেয়া যেতে পারে মর্ত্যে শিব ঠাকুরের শ্বশুরবাড়ি হলো এই মন্দিরটি। মন্দির প্রাঙ্গনে ঢুকে এর গঠন শৈলী দেখে আমি মুগ্ধ। কৌলিন্যে, আভিজাত্যে কোনারকের সূর্য মন্দিরের থেকে কিছু কম নয়। মূল মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে একটি শিবলিঙ্গ। মন্দিরের বারান্দায় রয়েছে একটি পালকি। মূল মন্দির ছাড়া বেশ কয়েকটি উপমন্দির ও একটি জলের কুন্ড রয়েছে মন্দির চত্বরে। মন্দির গাত্রের কাজ রীতিমত তাক লাগায়।
 
 
মন্দির ঘুরে ঘুরে ছবি তুলে আমি খুশি। বাকী বন্ধুরাও খুশি। এবার এসে পৌঁছলাম এক কিমি দূরে মা ভগবতী মন্দিরে। বেশ রঙচঙে। দেখলে সহজেই অনুমান করা যায় বহু বছরের পুরানো মন্দিরকে নতুন করে সাঁজিয়ে তোলা হয়েছে। তাই কোথাও হয়তো মন্দিরটি নিজস্ব গাম্ভীর্য হারিয়েছে।
চটপট মন্দির দর্শন করে ফটাফট অটোতে চেপে বসলাম। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলাটা যে ভীষণ জরুরী।
 
উড়িষ্যার খুরদা জেলায় অবস্থিত এই মন্দির দুটি ঘুরে এবার আমরা হাইওয়ে ধরে গঞ্জাম জেলার দিকে এগিয়ে চললাম। পরবর্তী দ্রষ্টব্য মন্দির তিনটি উড়িষ্যার গঞ্জাম জেলায়, আমাদের রাত্রিযাপনের আস্তানা রম্ভা পান্থনিবাসের পথেই। পথে একবার অটো থামিয়ে ইডলি, উপমা, সাম্বার বড়া আর গরম চা সহযোগে জলখাবারের পাট চুকিয়ে ফেলা হলো। হাইওয়ে ধরে বেশ খানিকটা চলার পর, এবার আমাদের বাহন হাইওয়ে ছেড়ে ডান দিকে বাঁক ঘুরলো।
আমরা এখন চলেছি ভালেরী পাহাড়ের মাথায় নারায়ণী মাতা মন্দিরে। হাই ওয়ে ছেড়ে বাঁক নেয়া থেকে মন্দিরের দোরগোড়া অবধি, পঁচিশ মিনিটের এই যাত্রাপথে রাস্তার দুপাশে শুধুই জঙ্গল। ভারী সুন্দর এই যাত্রাপথটি। পথের দুপাশে হনুমান আর বাঁদরের হুটোপুটি।
 
 
গন্তব্যে পৌঁছে, অটো থেকে নেমে, আমরা বাঁধানো সিঁড়ি বেয়ে উঠতে থাকলাম। পাহাড়ী টিলার মাথায় নারায়ণী দেবীর অধিষ্ঠান। দেখলাম পাহাড়ী এক ঝর্ণার জল একটি কুণ্ডে এসে জমছে। ভক্তরা সেই কুণ্ডের জল গায়ে মাথায় ছিটিয়ে নিজেদের পবিত্র করে নিচ্ছে।
 
 
গর্ভগৃহে নারায়ণী মাতার দর্শন সেরে পাহাড়ী পথ বেয়ে আরো কিছুটা ওপরে উঠে, অরণ্যের মধ্যে দর্শন করে এলাম বনদুর্গার মন্দিরটিও।
পায়ে হাঁটা পাহাড়ী এই পথটিও বেশ মনোরম।
 
 
 
 
 
এবার যাবো উড়িষ্যা রাজ্যের সব থেকে জনপ্রিয় দেবতা জগন্নাথবাবুর সাথে দেখা করতে। খালিকোটের রাজাদের নির্মিত এই জগন্নাথ মন্দিরটির দেয়াল গাত্রের কারুকাজগুলোও রীতিমত প্রশংসনীয়। দাঁড়িয়ে পরে অবাক হয়ে ভাবতে হয় আজ থেকে কত শত বছর আগে শিল্পীরা কি অসামান্য নৈপুণ্যের সাথে মন্দির গাত্রে এই সুক্ষ্ম কারুকাজগুলি ফুঁটিয়ে তুলেছিলেন।
 
 
 
বেশ কিছুক্ষণ ধরে মন্দির ঘুরে ঘুরে দেখে, ছবি তুলে সুভদ্রা এন্ড ব্রাদার্সের কাছ থেকে অনুমতি চেয়ে নিয়ে চললাম আজকের শেষ মন্দির, নির্মল ঝোরের পথে। তবে তার আগে পথে একবার হাকডাক করে অটোটাকে থামাতেই হলো। রাস্তার ধারে কি অদ্ভুত সুন্দর একটি মন্দির। ভেতরে ঢোকার অনুমতি নেই। বোঝা গেলো নিত্য পূজাও হয়না। কিন্তু, তাতে কি? কি অপ্রতিরোধ্য তার আকর্ষণ যে আমাকে একবার ছুঁটে যেতেই হলো তার কাছে।
বাইরে থেকেই একটা ছবি নিয়ে, আবার চেপে বসলাম অটোতে।
 
 
কিছুক্ষনের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম নির্মল ঝোর মন্দিরের সামনে। নির্মল ঝোর অর্থাৎ পবিত্র জলের একটি কুন্ডকে মাঝখানে রেখে তাকে ঘিরে একাধিক মন্দির দাঁড়িয়ে আছে। কথিত আছে কুণ্ডের এই পবিত্র জলের উৎস হলো পূর্বঘাট পর্বতমালার মারুয়া পাহাড়। বহু প্রাচীন এই মন্দির কমপ্লেক্সে ভগবান বিষ্ণু ছাড়াও পূজিত দেব দেবীরা হলেন নীলকণ্ঠেশ্বর, দেবী বিমলা, জগন্নাথ, রাধাকৃষ্ণ ও সূর্য্য দেবতা।
ভেতরটা ঘুরে ফিরে দেখতে বেশ ভালো লাগছিলো
 
 
আর ছোট ছোট এই মন্দির গুচ্ছের কারুকাজ ও চমৎকার। নির্মল ঝোর থেকে আরো আধ ঘন্টা সময় লাগলো আমাদের দুইদিনের নিশিযাপনের আস্তানা রম্ভা পান্থনিবাস পৌঁছতে। পৌঁছলাম যখন, ঘড়িতে তখন বেলা একটা। আমি মন্দির বিশেষজ্ঞ নই, তাই এই মন্দিরগুলো সম্বন্ধে গভীর বর্ণনা বা বিশ্লেষণ দিতে পারলাম না। তবে এবারও আমি খেয়াল করলাম, উড়িষ্যার ছোট বড় সব মন্দিরেরই প্রবেশ তোরনের দুই পাশে যে দুই জন করে সিংহ বসে থাকে, এবারও তার ব্যতিক্রম ছিলো না।
 
গল্পে গল্পে রাত 11 টা হয়ে গেলো দেখছি। এবার আমি শিব ঠাকুরের নাম নিয়ে ঘুমোতে যাই। কি ভাবছেন? জগন্নাথদেবের রাজ্যে এসে, তাকে ছেড়ে হঠাৎ শিবঠাকুরের নাম কেন স্মরণ করছি? আরে আজ যে শিবরাত্রি। শিব ঠাকুরের কৃপাতেই তো এই বছর শিবরাত্রি শুক্রবার পড়েছে। শিবরাত্রি বলেই তো আজ শুক্রবারের দিন আপিস ছুটি। শিব ঠাকুরের আশীর্বাদেই তো শুক্র, শনি, রবি মিলিয়ে আমার বেড়াতে আসা পবিত্র এই জগন্নাথভূমিতে। ঈশ্বরের অনুমতি ছাড়া যেমন গাছের পাতা নড়ে না, ঠিক তেমনি দুই চোখের পাতাও খুলে রাখা যায় না। অত এব শুভরাত্রি বন্ধুরা
বাকী কথা স্বপ্নে, থুড়ি ছবিতে🙂🙂
 

তৃতীয় পর্ব:

 
ভোর বেলা ঘুম চোখে, অন্ধকারেই, মাথার বালিশের কাছে হাতড়ে মোবাইল টার আলো জ্বেলে দেখলাম ভোর 4.50। মোবাইলের এলার্ম বাজতে এখনো দশ মিনিট বাকী। এটা একটা অদ্ভুত ম্যাজিক। কোথাও ঘুরতে যাওয়ার কথা হলে বা ঘুরতে গেলে আমার ঘুম আপনা থেকেই ভেঙে যায় সঠিক সময়ের আগে।
বিছানা ছেড়ে উঠে ব্যালকনির দরজা খুলে দেখলাম বাইরেটা বেশ অন্ধকার আর বেশ ঠান্ডা। সময় নষ্ট না করে, চটপট নিজে মোটামুটি রেডী হয়ে পাশের জনকে এবং পাশের ঘরের সঙ্গী সাথীদের ডেকে তুললাম। আমরা পাঁচজনে তৈরী হয়ে দোতলা থেকে নেমে হ্রদের দিকে জেটি ধরে হাঁটা লাগলাম।
 
 
জেটিটা বেশ সুন্দর সাঁজানো। দুই পাশে রেলিংয়ের ধারে সুন্দর বসবার জায়গা। আর একদম শেষ প্রান্তে ছাউনি দেয়া বসবার জায়গাদুটি ভোরের এই নরম আলোয় এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে আমার চোখে। সূর্যোদয় হতে আরো কিছুটা সময় বাকী। আমাবস্যার রাতের অন্ধকার চাদর সরিয়ে ধীর লয়ে একটি নতুন দিনের সূচনা হচ্ছে। হ্রদের জল যেখানে তীরে এসে মেশে, সেখানে কাঁদাজলে পুরু পুরু শ্যাওলার আস্তরণ। শয়ে শয়ে জলজ পাখী ঘুম ভেঙে ডানা ছটফটিয়ে যেন আড় ভাঙছে। কেউ কেউ আবার সেই কাঁদা জলে, লম্বা লম্বা সরু পা ফেলে চরম ব্যস্ততায় সরু সরু ঠোঁট দিয়ে কি যেন খুঁটে খুঁটে খুঁজে চলেছে এক মনে।
 
তীর ধরে সার দিয়ে বাঁধা রয়েছে নৌকাগুলো। কিছু নৌকো ট্যুরিস্টদের জন্য আর কিছু হলো মাছ ধরার ছোট ছোট ডিঙি নৌকো।
কাঁদা জলে গজিয়ে ওঠা লম্বা লম্বা সবুজ ঘাসগুলো ভোরের নরম হাওয়ায় কি কোমল লয়ে দুলে চলেছে এক মনে। দূরে হ্রদের জলে দেখা যায় দু একটি জ্বেলে নৌকো মাছ ধরতে বেড়িয়েছে। কি ভালো লাগছে সবটাই। গতকাল সন্ধ্যের সেই বাজে ভিড় টা এখন একদম নেই। আমরা ছাড়া জেটিতে রয়েছে কয়েকজন স্থানীয় মানুষ। কথা বলে জানলাম, তারা হলেন মৎস্যজীবী। একটু পরে একে একে তারাও ভেসে পড়বে হ্রদের জলে।
এক সময় পূবের আকাশ রাঙা করে দূরের ওই পাহারগুলোর পেছন থেকে সূর্য একটু খানি মাথা বার করে উঁকি দিলো। ধীরে ধীরে একটা লাল রঙের গোল বলয় দুটি পাহাড়ের মাঝের খাঁজ থেকে এক্কেবারে পাহাড়ের মাথায় উঠে এলো, আর ঠিক তখনি বলয়ের থেকে খানিকটা লাল রং ছিটকে পড়লো হ্রদের জলে, আর যেন শত সহস্র তানপুরা বেজে উঠলো ভৈরব রাগে সমগ্র চরাচর জুড়ে।
 
 
 
এ এমন সুর, এ এমন রঙ, এ এমন মায়া যা তোমাকে হাতছানি দিয়ে নিয়ে যেতে পারে অনেক দূরে, তুমি ভুলতে পারো চেনা পথের পথনির্দেশ।
আমি তো আরেকটু হলেই অচেনা পথে হাঁটা লাগাতাম, যদি না নির্ধারিত নৌকো, ঠিক সেই সময়ে আমাকে নির্ধারিত গন্তব্যে নিয়ে যেতে আসতো।
লালরঙা লাইফ জ্যাকেটের বেষ্টনীতে নিজ লাইফের দায়িত্ব ছেড়ে , আমি মন ভাসিয়ে দিলাম হ্রদের টলটলে নীল জলে, জীবনের সন্ধানে।
তীরে বাঁধা নৌকোগুলোকে বললাম, তুমি তীরেই বসে থাকো। আমি চললাম গভীরে, আরো গভীরে।
 
 
দূরের সেই পাহাড় গুলো এখন যেন একদম কাছে। এগুলো যখন ডান হাতের নাগালে, তখন আবার একসারি পাহাড় বাঁদিক থেকে হাতছানি দিয়ে ডাকে তার কাছে। ডলফিন গুলো মুহূর্তের মধ্যে ধরা দিয়েই আবার চোখের নিমেষে নীল জলে লুকিয়ে পরে। সূর্যটা একবার ডানদিকে তো একবার বাঁ দিকে। আমাদের নৌকো যত এগোয়, তার সাথে পাল্লা দিয়ে পরিযায়ী পাখীর ঝাঁক যেন আরো এগিয়ে উড়ে গিয়ে আরো দূরে গিয়ে বসে। এক যেন এক লুকোচুরি খেলার রাজ্যে ঢুকে পড়েছি। সবাই যেন টুকি দিতে ব্যস্ত। সত্যি কথাই, লুকোচুরি খেলায় যা আমেজ আছে, তা ধরা দেয়ায় বা ধরা পড়ায় নেই।
 
আমাদের মোটরচালিত নৌকো সশব্দে এগিয়ে চলেছে ব্রেকফাস্ট আইল্যান্ডের দিকে। আমরা নামিনি। কেউ চাইলে এখানে নেমে ব্রেকফাস্ট সারতেই পারে।
তার বদলে মাঝিকে বলে, হ্রদের মাঝের ওই হলুদ রঙের ঘর আর লাগোয়া মিনারটিকে মাঝে রেখে তার চারপাশে দুবার চক্কর কেটে আমরা চললাম ঠিক উল্টোদিকের একটি পাহাড়ী দ্বীপে, নাম ঘন্টশিলা হিল এন্ড আইল্যান্ড।
 
 
এই দ্বীপে, পাহাড়ী টিলার মধ্যে একটি গুহায় শিব ঠাকুরের অবস্থান। দ্বীপে নেমে হামাগুড়ি দিয়ে গুহায় ঢুকলাম। যে পথে ঢুকলাম, সেই পথে না বেড়িয়ে অন্য পথে গুহা থেকে বেরোলাম। এই ঘন্টাশিলা হিল আইল্যান্ড থেকে খুব সুন্দর দেখা যায় ব্রেকফাস্ট আইল্যান্ডটিকে।
 
 
 
এরপর আমার গেলাম ডাইনোসর আইল্যান্ডে। আমরা দূর থেকেই বুঝতে পারি বিশালাকার এক ডাইনোসর আমাদের জন্যই ওত পেতে অপেক্ষা করে আছে পাথরের পেছনে। তাই সেই আইল্যান্ডে আর নামবার সাহস হয়নি আমাদের। নৌকোর স্টার্ট বন্ধ করে, হ্রদের জলে ভেসে নৌকোয় বসে দূর থেকেই ডাইনোসোরের কীর্তিকলাপ দেখতে থাকলাম।
 
 
এবার চললাম বার্ডস আইল্যান্ডের দিকে। ঝাঁকে ঝাঁকে সী গালস, হ্রদের জলে মাথা উঁচু করে থাকা ছোট ছোট পাথরে দাঁড়িয়ে থেকে আমাদের সুস্বাগতম জানালো তাদের পাখী দ্বীপে। জুতো খুলে হাতে নিয়ে, হাঁটু অবধি প্যান্ট গুটিয়ে, হ্রদের ঠান্ডা জল ভেঙে, তবে এই দ্বীপের মাটিতে পা রাখলাম। সবুজ রঙের এই দ্বীপে কত শত পাখীর ডাক।
 
 
 
চোখ বুজে চুপ করে শুনলে সেই আওয়াজ তীব্র হয়, আর চোখ খুললেই তীব্রতা কমে যায়। এখানেও আবার সেই লুকোচুরির খেলা। বার্ডস আইল্যান্ড থেকে এবার চললাম হানিমুন আইল্যান্ডের দিকে। নামের মধ্যে মধু থাকলে কি হবে, আমরা কেউই তো কাপেলে আসিনি। তাই ঠিক হলো, দ্বীপে নেমে তার নাম বদনাম করার কোনো মানেই হয়না। মোটরচালিত নৌকোটি করে হানিমুন আইল্যান্ডের চারপাশে ঘুরে এবার আমরা ফিরে চললাম তীরের উদ্দেশ্যে।
 
 
 
ফিরতি পথে আবার দেখা পেলাম সেই ডাইনোসোরের, সেই পাহাড়ী গুহার, সেই ব্রেকফাস্ট আইল্যান্ডের। চার ঘণ্টা ধরে চিলিকার বুকে এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে ঘুরে যখন আমরা পান্থনিবাস পৌঁছলাম তখন ঘড়ির কাটায় বারোটা বাজে। ফিরবার সময় গেটের বাইরে থেকেই একটি অটো ঠিক করে রাখা হলো ওবেলা ঘুরতে যাওয়ার জন্য। শীতের বেলা। তাই অটোদাদাকে বলা হলো আড়াই টার সময়ে চলে আসতে।
 
পন্থনিবাসে পৌঁছে সঙ্গে থাকা শুকনো খাবার টুকটাক খেয়ে, স্নান করে, তৈরী হয়ে একটার মধ্যে ক্যান্টিনে গিয়ে লাঞ্চ সেরে ফেরা হলো। আজ আমি কাতলা মাছ খেলাম। সঙ্গে ডাল আর আলুভাজা। লাঞ্চ সেরে একটু এদিক ওদিক করেই সেদিকে ছুটতে হলো, যেদিকে অটো দাঁড়িয়ে। পাঁচজনে আবার সেই চাপাচাপি করে চেপে বসলাম অটোতে।এখন আমরা চলেছি সাগর পারে। রম্ভা পন্থনিবাস থেকে 15 কিঃমিঃ দূরে বটেশ্বর সমুদ্র সৈকতে। হাই ওয়ে ছেড়ে গ্রামের রাস্তা ধরার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই পেটের সব খাবার হজম হয়ে গেলো। ঝাঁকুনির চোটে সামনে পেছনে, ডাইনে বাঁয়ে লাফাতে লাফাতে আমরা এগিয়ে চললাম। আমি শক্ত করে অটোর হাতল ধরে, এক ধারে বসে আছি। রাস্তার পাশ দিয়ে কত সুন্দর সুন্দর মন্দির ও ঠিক আমার মতই লাফাতে লাফাতে চোখের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলো। লাফাতে লাফাতেই দেখতে পাচ্ছি জায়গায় জায়গায় সমুদ্রের জল কে বেঁধে নুন চাষ হচ্ছে। ছোট ছোট পাখীর ঝাঁক বসে নুন চাটছিলো। আমাদের অটোকে গো গো শব্দ করে লাফাতে লাফাতে আসতে দেখে তারা ঝাঁক বেঁধে উড়ে গেলো। সৈকতে পৌঁছবার শেষ তিন কিঃমিঃ রাস্তা কাজু বনের ভিতর দিয়ে আর অপেক্ষাকৃত মসৃণ।
 
আমাদের অটো এক সময়ে বটেশ্বর সৈকতে আমাদের নামিয়ে দিলো। বালির ওপর দিয়ে বেশ খানিকটা হেঁটে যাওয়ার পরই দেখতে পেলাম উত্তাল বঙ্গপসাগর তার তরঙ্গমালাকে তীরে চূর্ণ বিচূর্ণ করে আমাদের সশব্দে, সাদরে অভিবাদন জানালো। নিঃসন্দেহে বলতে পারি, আমার দেখা অন্যতম সেরা বেলাভূমি এটি।
 
এই বেলাভূমির নিজস্ব বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্য আছে। এই সময়ে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চ মাসের মাঝামাঝি অবধি গর্ভবতী অলিভ রিডল টারটেলরা রাতের বেলা সমুদ্রের জল থেকে নির্জন এই বেলাভূমিতে উঠে আসে, ডিম পাড়তে। ডিম পাড়ার আরো পনেরো কুড়ি দিন পর সেই ডিম ফুঁটে শয়ে শয়ে বাচ্চা কচ্ছপরা সমুদ্রে পারি দেয়। সেই দৃশ্য না কি জীবনে ভুলবার নয়। যেহেতু এখন প্রজনন মরশুম, তাই কিছু বনকর্মীরা এখানে আছেন পাহারায়। এই সকল কিছু তাদের কাছ থেকেই শুনলাম। লোকচক্ষুর আড়ালে, একেবারে নির্জন, ঝাউ বনে ঘেরা, ঘন নীল জলের সমুদ্র সৈকত এটি।
আসলে বেশীরভাগ সমুদ্রবিলাসীদেরকেই নিজের কাছে টেনে নেয় কাছাকাছি থাকা গোপালপুর সৈকত।
 
জনমানবহীন এই বেলাভূমিতে জুড়ে শুধুই কাঁকড়াদের দৌরাত্ম। আমি বাঁ দিক বরাবর সমুদ্রের তীর ধরে হাঁটতে থাকলাম। চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে নানা আকৃতির ঝিনুক। একটার পর একটা ঢেউ এসে আমার পা ভিজিয়ে দিয়ে যেতে লাগলো। দূরে ঢেউ গুলোর ওই পারে কয়েকটি মোটরচালিত নৌকো ছুটে চলেছে। সমুদ্রের গর্জনে নৌকোর মোটরের আওয়াজ কানে পৌঁছোয় না। বালির মধ্যে এক জায়গায় এক শিব ঠাকুরকে দেখলাম একা একা দাঁড়িয়ে আছে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে। মনে হয়, আগের দিন শিবরাত্রিতে ভক্তদের অতিরিক্ত ভক্তিতে খুশি হয়েই তিনি নিজের মত করে একটু সময় কাটাতে এসেছেন এই বটেশ্বর সৈকতে।
 
 
 
ঝাউবন থেকে ভেসে আসা শনসন হাওয়া এক সময়ে যেন কানে কানে বলে যায়, “চলো মন হারাই।” দূর থেকে বন্ধুদের ডাকাডাকিতে আর মন হারানো হলো না। মনের দুঃখ মনে পুষে চেপে বসলাম অটোতে। ঝাউবনের ভিতর দিয়ে,খানিক এগিয়েই পৌঁছে গেলাম বটেশ্বর শিব মন্দিরে। মন্দিরটি দেখলে স্পষ্টতই বোঝা যায় যে মূল মন্দিরটিকে মাটি খুঁড়ে বার করা হয়েছে। মূল মন্দিরের কাঠামোর ওপরে পরবর্তীসময়ে গড়ে তোলা হয়েছে আজকের নতুন এই মন্দির।
 
 
 
 
মন্দির ঘুরে দেখে কিছু ছবি নিয়ে ফিরে চললাম সোজা রম্ভার দিকে। হ্রদের তীরে বসেই আজকের সূর্যকে বিদায় জানবো আমরা। ফিরবার পথে একটি দোকানে অটো দাঁড় করিয়ে শুকনো খাবার কিছু কিনে নেয়া হলো।
 
রম্ভা পৌঁছে , জেটি বরাবর ওই ভীরের মধ্যে না গিয়ে আমরা ডান দিকের সিঁড়ি বেয়ে, জেটি থেকে নেমে পড়লাম শুকনো ঘাস জমিতে। সেই দিক বরাবর প্রায় এক কিঃমিঃ মত রাস্তা হেঁটে আবার হ্রদের তীরে চলে এলাম। এদিকটা এক্কেবারে নিরিবিলি। আমরা ছাড়া আর কেউ নেই। এদিকটাতেও হ্রদের জলে অনেকগুলো নৌকো বাঁধা। ছোট ছোট মাচায়, মাটিতে ঘাস জমিতে মাছ ধরার জাল শুকোতে দেয়া হয়েছে। মনে হয় জ্বেলেদের গ্রাম পাশেই।
এদিকটা থেকেও দূরে আবছা পাহাড় দেখা যাচ্ছে।
 
 
কিছুসময়ের মধ্যেই পশ্চিমাকাশে শুরু হলো রঙের খেলা। আজকের দিনটা সত্যিই অন্যরকম, অনেককিছু প্রাপ্তির যোগ ছিলো আজকের এই দিনে। ভোরের সেই সূর্যটা, যে এমন সুন্দর একটা দিন আমায় উপহার দিলো, তার এখন বিশ্রামে যাবার সময়। মনে মনে কৃতজ্ঞতা জানালাম তাকে। পশ্চিমের আকাশে সোনালী রং ছড়িয়ে, হ্রদের উল্টোদিকে একটি গাছের পেছনে সে আজকের মত বিদায় নিলো।
 
সূর্য্য পাটে যাবার পরেও, আমরা কিন্তু বিদায় নিলাম না সেখান থেকে। গোধূলীর ওম মাখানো রঙিন চাদর গায়ে জড়িয়ে আমরা বসে রইলাম অন্ধকার নামা অবধি।আমার ছবি শিকারী বন্ধুরা ট্রাইপড খুলে তাতে ক্যামেরা বসিয়ে, সময় সেট করে একের পর এক ছবি শিকার করে চলেছে।
 
সঙ্গে করে আনা টুকটাক খাবার সহযোগে, সকল চাওয়া পাওয়ার অনেক উর্দ্ধে উঠে, হ্রদের ধারে সেই ঘাস জমিতে, সেই মুহুর্তে নেমে এলো এক অপার্থিব সুরসন্ধ্যা, …..
জিন্দেগী ক্যায়সি হ্যায় পহেলি হ্যায়
কভি ইয়ে হাসায়ে, কভি ইয়ে রুলায়ে
 

শেষ পর্ব:

 
ভোর ভোর ঘুম থেকে উঠে এসে বসলাম সাধের সেই ব্যালকনিতে। ভোরের দিকটা বাইরে বেশ ঠান্ডা। গতকাল রাতে গল্পে, আড্ডায় জমে গিয়ে বেশ রাত হয়ে গেছিলো শুতে। আজ আমাকে কলিঙ্গ ছেড়ে বঙ্গে ফিরতে হবে। লাগাম ছাড়া জীবনটাকে আবার নিয়মের শেকলে বেঁধে ব্যস্ত হয়ে পড়তে হবে দৈনন্দিন কর্মজীবনে। কেউ ঠিকই বলেছেন, আমাদের জীবনে ভালো লাগার মুহূর্ত গুলো যেন সত্যিই বড্ড দ্রুত পার হয়ে যায়। না, আমি মন খারাপ করবো না। আমি আমার মনের কাছে প্রতিশ্রুতিব্ধ যে, কোনোরকম দুঃখের ছায়া তার ওপরে নেমে আসতে দেবো না। আমরা সারা জীবন ভালো থাকবো, আনন্দে বাঁচবো। দুঃখ যদি আমাদের জীবনে উঁকিঝুঁকি মারতে আসে, তবে আমরা একসাথে লড়াই করে দুঃখকে মেরে ভাগিয়ে দেবো আমাদের জীবন থেকে।
ওই তো ভোরের সূর্য্য আজো রোজের নিয়মে পূবের আকাশে ওই পাহাড় গুলোর পেছন থেকে জেগে উঠেছে।
 
 
ভোরের মিঠে হাওয়া একই নিয়মে আমার চারপাশ দিয়ে বয়ে চলেছে। আজ দেখছি আবার একটা ব্রাহ্মণী চিল ও সামনের খোলা আকাশে দুই ডানা মেলে নিজেকে অসীমে ভাসিয়ে গোল গোল ঘুরে চলেছে। এই সব আয়োজন তো শুধুই আমার জন্যে। আমাকে আর আমার মনকে ভালো রাখার জন্যে।
রম্ভা পান্থনিবাস থেকে আমাদের চেক আউটের সময় বেলা 12 টা। সকালটা ঘরেই ল্যাদ খেয়ে কাটিয়ে, জলখাবার খেয়ে, ব্যাগপত্র গুছিয়ে, নিজেরা তৈরী হয়ে নিয়ে আমরা 11 টা নাগাদ বেড়িয়ে পড়লাম।
 
আমাদের ফিরতি ট্রেনের কনফার্ম টিকিট কাটা রয়েছে চেন্নাই মেলে। সেই ট্রেন বালুগাঁও স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবে সন্ধ্যা 6 টা বেজে 55 মিনিটে।
হাতে অনেকটা সময় আছে আমাদের। আমরা ঠিক করেছি ফিরবার পথে বরকুল থেকে চিলকার সাথে আরেকবার দেখা করে বালুগাঁও স্টেশন যাবো।
প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি উড়িষ্যা রাজ্যের তিনটি জেলায় চিলিকা হ্রদকে কেন্দ্র করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।
১. গঞ্জাম জেলার রম্ভায় (আমরা যেখানে ছিলাম)।
২. খোরদা জেলার বরকুলে (এখন যেখানে যাবো)।
৩. পুরি জেলার সাতপদাতে (একাধিকবার পুরী গেলেও, আমার কোনোদিনও যাওয়া হয়ে ওঠেনি)।
 
 
আমরা পান্থনিবাস থেকে বেরিয়ে কিছুটা হেঁটে বাজারের কাছাকাছি চলে আসি, যেদিকটায় গায়ত্রী মন্দির আছে। দরদাম করে একটা অটো ঠিক করা হলো। বরকুল ট্যুরিস্ট পয়েন্ট থেকে এক কিঃমিঃ আগে চিলিকা ধাবা অবধি সে আমাদের পৌঁছে দেবে। এখানে জানিয়ে রাখি, পান্থনিবাসের রিসেপশনে বললে ওরাও অটো বা গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়। তবে খুব স্বাভাবিক কারণেই ভাড়া টা বেশি পরে। অটোতে প্রায় এক ঘন্টা মত সময় লাগলো আমাদের চিলকা ধাবা পৌঁছতে। এই অঞ্চলে চিলকা ধাবার রান্নাবান্নার বেশ সুখ্যাতি। তাই আমরা দুপুরের খাবার ওখানেই খেলাম।
 
 
আমি আজ ভাতের সাথে নিলাম কাঁকড়া মশালা। গরম গরম ভাতের সাথে ঝাল ঝাল কাঁকড়া বেশ জমে গেলো।
খাওয়া সেরে আমরা হাঁটি হাঁটি পায়ে এক কিঃমিঃ হেঁটে এসে পৌঁছলাম বরকুল otdc পান্থনিবাসের সামনে। এখানে এটি ছাড়াও রাস্তার দুপাশে বেশ কয়েকটি প্রাইভেট হোটেল আছে যাত্রীদের থাকবার জন্য।
 
পান্থনিবাস কে পাশ কাটিয়ে খানিকটা হেঁটে আসতেই আবার সেই চিলিকা সুন্দরীর দেখা পেলাম।
সেই নীল জল……
সেই দূরের পাহাড়…..
তবে একটা কথা, চিলিকা নিজেকে যতটা সুন্দর করে ধরা দিয়েছে রম্ভার কাছে, বরকুলকে কিন্তু সেই তুলনায় অনেকটাই বঞ্চিত করেছে। তাছাড়া এখানে আশেপাশের জায়গা থেকে আসা প্রচুর তীর্থযাত্রীদের ভীর হয়, হ্রদের জলে একটি দ্বীপে থাকা কালি মন্দির কে কেন্দ্র করে। বলাবাহুল্য সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি প্রচুর ভক্তসমাগম এখানে, তাই নিরিবিলি বিষয়টা অনেকাংশেই বিঘ্নিত। আমরা প্রাইভেট বোট বুকিং কাউন্টার থেকে ১০ সিটের একটি মোটর বোট ভাড়া করে আরেকবার ভেসে পড়লাম হ্রদের জলে।
 
 
আমাদের গন্তব্য কালিজায়ী দ্বীপ। আমাদের নৌকোর সাথে একই পথে, তীর্থযাত্রী বোঝাই করে অনেক নৌকো ছুটে চলেছে কালিজায়ী দ্বীপে। এ যেন জলপথে নৌকোয় নৌকোয় রেস চলছে, কে আগে কালি মায়ের কাছে পৌঁছতে পারে। যাদের দর্শন, পুজো হয়ে গেছে, তাদের নিয়ে আবার উল্টোদিক থেকেও জল কেটে ধেয়ে আসছে অনেক নৌকো।
 
জলপথে আরো খানিকটা চলার পর শয়ে শয়ে সীগাল খাবারের লোভে আমাদের নৌকোর পেছন পেছন উড়তে লাগলো। আমার কাছে একটা প্যাকেটে কিছু শুকনো মুড়ি ছিলো। সেই মুড়ি মুঠো মুঠো করে জলে ছুড়ে দিতেই, শুরু হলো মজার খেলা। ঝাঁক বেঁধে সেই পাখীগুলো ডানা ঝটপটিয়ে জলে নেমে খুঁটে খুঁটে খেয়ে আবার উড়ে উড়ে যেতে লাগলো। যতক্ষন না মুড়ি শেষ হলো, তারাও আমাদের নৌকোর পিছু ছাড়লো না।
 
 
 
বুঝলাম আমার এই কর্মকান্ডে আমার ফটোগ্রাফার বন্ধুরা উড়ন্ত পাখী গুলোর কিছু দুর্দান্ত ছবি ক্যামেরা বন্দী করতে পেরে আমার ওপর খুব খুশি।
নিজের খুশি দিয়ে বাকীদের খুশি করতে পেরে আমি তখন আরো অনেক বেশি খুশি। সূর্যের সাথে কানামাছি খেলতে খেলতে, হ্রদের জলে জেগে থাকা পাহাড় সারিগুলোকে একের পর এক পেছনে ফেলে আমরা পৌঁছে গেলাম সেই কালিজায়ী দ্বীপে।
 
 
পৌঁছতে সময় লাগলো প্রায় এক ঘন্টা। ছোট্ট এই দ্বীপে, ছোট্ট এই কালী মন্দির কে কেন্দ্র করেই এত জনসমাগম, যাদের বেশীরভাগই তীর্থযাত্রী।
আর এই ভক্তদের কথা মাথায় রেখেই এখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি পূজা সামগ্রীর দোকান, খাবার দাবারের দোকান। বেঁচে থাক এমন ধর্মবিশ্বাস, যা এই মাঝিদের থেকে শুরু করে ওই দোকানীদের দুই বেলার অন্নের জোগান দেয়। মনে মনে প্রণাম জানাই দেবী মা কে।
 
 
 
আমরা দ্রুত পায়ে মন্দির দর্শন করে, দ্বীপ ঘুরে, ছবি তুলে আবার নৌকোয় চেপে বসলাম। ফিরতি পথে সেই শ্বেত শুভ্র পাখীগুলো আবার ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এসে বসলো হৃদের জলে, আমাদের শুভ বিদায় জানাতে। নৌকো থেকে নেমে দেখলাম হাতে এখনো আরো কিছুটা সময় আছে। বরকুল otdc পান্থনিবাসের ঠিক সামনে বেশ অনেকটা জায়গা জুড়ে, গোল করে উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘিরে, হ্রদের জলকে আটকে রেখে তার মধ্যে ওয়াটার স্পোর্টস কমপ্লেক্স তৈরী করা হয়েছে সরকারী উদ্যোগে। বেশ কয়েকজনকে দেখলাম শীতের সেই পড়ন্ত বেলায় জমিয়ে জলক্রীড়ার আনন্দ নিচ্ছে।
 
 
 
পকেট পারমিট করলেও আমাদের সময় পারমিট করলো না। অগত্যা, খানিকটা সময় ওই ওয়াটার স্পোর্টস গ্রাউন্ডটাকে গোল করে হেঁটে ঘুরে, কিছু ছবি তুলে শেষবারের মত পেছন ফিরে, চিলিকার চোখে চোখ রেখে তাকে শুভ বিদায় জানিয়ে, ফিরতি পথে পা বাড়ালাম।
 
 
তারপর আর কি? আবার একটা অটো ঠিক করে ফেলা হলো। তাতে আবার পাঁচজনে মিলে চাপাচাপি করে বসা হলো।আমাদের অটো গো গো শব্দ তুলে কিছু সময়ের মধ্যে আমাদের স্টেশন পৌঁছে দিলো। স্টেশন পোঁছে গরম চায়ের সাথে, আন্ডা বোন্ডা (ডিমের চপ) খাওয়া হলো।
 
 
 
আর হ্যাঁ, আমরা সেই যাত্রায় ফিরতি ট্রেন মিস করিনি। চেন্নাই মেইল আমাদের পরের দিন ভোরে একদম সঠিক সময়েই হাওড়া পৌঁছে দেয়।
লাস্ট বাট নট ইন দি লিস্ট, কলিঙ্গ ছেড়ে বঙ্গে ফিরেই আমাকে অফিসের কাজে জোর করে মন বসাতেও হয়।
 
সমাপ্ত।।
3 3 votes
Article Rating

I am eager to know your views on this post. Please leave a reply

0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments